ইফতেখার খুব পরিশ্রমী ছিল। তারপর একদিন বড়লোক বন্ধুদের দেখাদেখি সেও শর্টকাটে বিদেশে যাওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করল
পরিবারের আদরের ছোট ছেলে ইফতেখার সিদ্দিক (অমি) ছিল ভীষণ মেধাবী ও পরিশ্রমী। কিছু মানুষের কালোটাকা আর তাদের সাময়িক সৌভাগ্য তাকে বিশ্বাস করিয়েছিল, দালালদের টাকা দিলে বিদেশ যাওয়াটা খুব সহজ হয়ে যায়। দক্ষতা, সনদপত্র বা হিসাব বিবরণী সবকিছুই তখন নিজে নিজে সঠিক ভাবে হয়ে যায়। এই ভুল বিশ্বাসের দাম সে দিয়েছিল বছরের পর বছর প্রতারিত হয়ে ... পরিবার, পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সবার বিশ্বাস থেকে আস্থা পর্যন্ত সবকিছু হারিয়ে।
↓ বিস্তারিত জানতে নিচের দিকে স্ক্রল করুন ↓
কলেজ জীবনে বরাবরই গোল্ডেন জিপিএ পাওয়া ক্যাডেট ইফতেখার (পাবনা ক্যাডেট কলেজ, X-Batch) ছিল সকলের গর্ব। পড়াশোনায় মন ছিল, চোখে স্বপ্ন ছিল আর সেই স্বপ্নটা ছিল বড় কিছু করার, বিসিএস বা ব্যাবসা ভালো না লাগায় ঝোঁকটা বেশী ছিল বিদেশে যাওয়ার অর্থাৎ দ্রুত নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের জন্য কিছু একটা করার।
সময় যাচ্ছিল, তাঁকে ঘিরে সবার স্বপ্নটা বড় হচ্ছিল কিন্তু সবার স্বপ্নটা যত বড় হচ্ছিল, তার ধৈর্যটা তত কমে যাচ্ছিল। ক্যাডেট কলেজে পরার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আর বয়সের কারনে আবেগে ভেসে এটা ওটা করতে করতে আর পড়ালেখায় সময় কম দিতে দিতে পার হয়ে গিয়েছিলো অতিরিক্ত প্রায় দেড় বছর। হটাৎ সে দেখলো, এক বড়লোক বন্ধু টাকা দিয়ে দরকারী সব চিঠিপত্র লিখিয়ে, দালালকে দিয়ে সব ফর্ম ফিলাপ করিয়ে সহজেই বিদেশে চলে গেল। ইফতেখার ভাবল, এটাই বুঝি সহজ রাস্তা। কষ্ট করার দরকার নেই, শুধু দালাল টাকা দিতে হবে। সেদিন থেকেই তার পতনের শুরু।
সেই দালাল ধরাধরিতেই শুরু হলো তার জীবনের সবচেয়ে করুন অধ্যায়। সংক্ষেপে, বিভিন্ন দেশের জন্য বিভিন্ন দালাল খুঁজে বের করতে শুরু করলো সে। তাদের সকলের কথাই ছিল প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী এবং সবাই লেনদেন করতো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভালো ভালো দেশের ভাল ভাল ইউনিভার্সিটিতে পাঠিয়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে ছবিসহ স্ট্যাম্প পেপারে চুক্তি করে তাই অবিশ্বাস করার কোন সুযোগই ছিলো না তার। তারপর শুরু হত অপেক্ষার পালা, অপেক্ষা করতে করতে দালাল তো দালাল, কিছুদিন পর অফিস পর্যন্ত উধাও হয়ে যাওয়া দেখলো সে। সবশেষে ও সবচেয়ে বেশি টাকা সে দিয়েছিল সুইজারল্যান্ড যাওয়ার জন্য। সবখানে টাকা জমা দিয়ে সে বারবার প্রতারিত হলো। বাসায় কেউ জানলো না সত্যিটা ... সবাই ভাবল সে আড্ডা দিয়ে আর বন্ধুদের সাথে ট্যুর করে করে সব টাকা উড়িয়েছে। সরাসরি প্রতারণা না করা দালালেরাও ভুলভাল সব তথ্য লিখে ডকুমেন্ট জমা দিল, অনেক অনেক টাকা খরচ দেখালো এবং শেষে সব জায়গায় সে রিজেক্টেড হলো। অন্যদিকে লাগবে IELTS, সেজন্যও আছে ভিন্ন ধরনের "শর্টকাট গুরু"-রূপের ভিন্ন দালাল বা প্রতারক। তাদের কাছে গিয়ে, ৭ দিন বা ৩০ দিনের ক্রাশ কোর্সের ফাঁপা আত্মবিশ্বাস নিয়ে IELTS দিতে বসল ফলে কাঙ্ক্ষিত স্কোর এলো না। চারদিক থেকে এলো কেবল ব্যর্থতা আর ব্যর্থতা।
প্রতিটা ব্যর্থতার সাথে সাথে সবার অজান্তে তার চোখের নিচের কালি গাঢ় হতে লাগল। ততদিনে মায়ের প্রায় বিশ (তখন দাম খুব বেশি ছিল না) এবং স্ত্রীর প্রায় পাঁচ ভরি (এমনকি বিয়েতে পাওয়া তাদের সমস্ত গহনাসহ) স্বর্ণ তার হাত দিয়ে বিক্রি হয়ে গেছে কিন্তু বিভিন্ন ভুল পথ জানা ছাড়া লাভ হয়নি আর কিছুই। তার উপর নিজের নামের বিভিন্ন ধরণের বানান, বাবা-মায়ের আইডির সাথে ছোট্ট ছোট্ট অমিল, হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র, অন্যান্য বিভিন্ন সংশোধন, ইংরেজীতে কাবিননামা উঠানো ইত্যাদির জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস অফিসে অফিসে ঘুরে ঘুরে সে বুঝলো, সে আসলে এই সিস্টেমের কাছে তুচ্ছ, অসহায় ও প্রতারিত একটি সাধারণ চরিত্র মাত্র। সে বুঝলো, বাস্তবতা কঠিন।
যে ইফতেখার সৃজনশীলতা, চঞ্চলতা আর দুষ্টামিতে একসময় ক্লাসে সবার আগে থাকত, যেকোন বন্ধুর যেকোনো প্রয়োজনে সবার আগে ছুটে যেত, সে তখনো জানত না বাস্তব জীবনে কাগজপত্রে চূড়ান্ত সতর্ক হওয়া বা সময়ের কাজ ঠিক সময়ে করার মানে কী এবং ততদিনে সে হারিয়ে ফেলেছিল পরিবারের সবার আস্থা, বিশ্বাস আর সম্মান।
বাসায় কথা বলা কমে গিয়েছিল তার। কেউ সরাসরি কিছু বলতো না কিন্তু সে বুঝত, সকলের চোখে সে এখন আগের সেই সম্ভাবনাময় ইফতেখার আর নেই।
কিন্তু ইফতেখার অনন্য কারণ এত কিছুর পরেও সে হাল ছাড়েনি বরং শিখেছে। এই সকল পতনের ভেতর দিয়েই সে শিখেছিল, দালাল বা শর্টকাট কোনোটাই আসলে কাজ করে না
সবশেষে যা কাজ করেছিল সেটা হলো কাঠামোবদ্ধ প্রস্তুতি। একটা একটা করে, গুরুত্ব অনুসারে সকল সমস্যার প্রকৃত সমাধান ও চূড়ান্ত ধৈর্য্য। অনভিজ্ঞ হবার ফলে, বিদেশযাত্রায় যে হয়রানিগুলো তাকে বছরের পর বছর ভুগিয়েছে সেগুলো এখন সে চেনে নিজের হাতের তালুর মতো আর সেই অভিজ্ঞতার সুফলই এখন সে দিতে চায় অন্যদের।
এটা কেবল আমাদের কোর্সে জয়েন করানোর ওয়েবসাইট নয় তাই অ্যাংলোস্ফিয়ারে (কানাডা বা যেকোনো ইংরেজি ভাষাভাষী দেশ) যেতে যে কাগজপত্র লাগে, সেগুলো জোগাড় করতে গিয়ে যেসব হয়রানির মুখোমুখি হতে হয় নিচে তার একটা বাস্তব তালিকা আর প্রতিটা সমস্যার একটা সাধারণ সমাধান দেয়া হলোঃ
যে বাধাগুলো প্রায় সবাইকে পার হতে হয়
কাগজপত্র জোগাড় করতে গিয়ে আমরা সাধারণ যেসব ঝামেলায় পরি এবং তার সমাধান
NID ও পাসপোর্টে নাম ভুল
এই সমস্যা নেই এমন পরিবার এই দেশে খুঁজে পাওয়া দুস্কর! আমাদের নিজের বা বাবা-মায়ের নাম বা জন্ম তারিখে ছোটখাটো ভুল বা অমিল থেকেই যায়। যা ইমিগ্রেশান অফিসারেরে জন্য মোটেই ছোটখাটো বিষয় নয় কারণ নাম বা জন্ম তারিখে সামান্যতম ভুলও ইমিগ্রেশান আইনে গ্রহণযোগ্য নয় তাই বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। এক্ষেত্রে মূল সমস্যা হলো, সংশোধন করতে গেলে ইউনিয়ন পরিষদে মেয়র, কাউন্সিলর বা দায়িত্বপ্রাপ্তদের না থাকা, পাসপোর্ট অফিসের কাজে প্রচণ্ড ধীরগতি আর অনৈতিক দাবি-দাওয়া বা প্রত্যাশা।
কাবিননামার ইংরেজি অনুবাদে সূক্ষ্ম ভুল
কাবিননামায় একটা কমা বা ফুলস্টপের অমিলেও ইমিগ্রেশনে প্রচণ্ড বাধা তৈরি হয়। কাজী অফিস থেকে ইংরেজি কপি তুলতে গেলে বাড়তি টাকা ছাড়া ফাইল ছাড়তে চায় না অনেকেই, কপি দিলেও তাতে ইচ্ছে করে নাম বা ঠিকানা ভুল করে রাখে আর বিদেশ যারার কথা শুনলেই কাবিনের অফিস কপি বা ঐ বছরের রেজিস্টার হারিয়ে যাবার কথা বলা ইত্যাদি তো আছেই!
--- শর্টকাট, ভুয়া এজেন্সি ও IELTS-গুরুর প্রতারণা --- Start Revision From Here
সঠিক তথ্যের অভাবে দালালের কাছে যাওয়া, ভুয়া প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে টাকা ও সময় নষ্ট করা, ভিসা রিফিউজাল রেকর্ড তৈরি হওয়া ... সর্বোপরি, প্রাণনাশের হুমকি তৈরি হওয়া
ট্রান্সক্রিপ্ট,সনদ, ভেরিফিকেশন
বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিলগালা খামে মূল ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে গিয়ে "খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না" অজুহাতে দিনের পর দিন ঘোরানো, দালালচক্রের ঘুষের চাপ, ম্যানুয়াল অনুসন্ধান, ছোটখাটো ভুলে অযৌক্তিক জটিলতা, হেল্পডেস্ক ও স্পষ্ট তথ্যের অভাব, সশরীরে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা, প্রতিষ্ঠান ও বোর্ডের সমন্বয়হীনতা ইত্যাদি নানান জটিলতায় ট্রান্সক্রিপ্ট, সনদ ও ভেরিফিকেশন হয়ে উঠে একটা দুঃস্বপ্ন
সরকারি সত্যায়ন (MOE ও MOFA)
প্রথমে নিজ নিজ বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, তারপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নথি সত্যায়ন করানো লাগে। এই দীর্ঘ চেইনের যেকোনো একটি ধাপে সামান্য দেরি বা ভুল হলে পুরো প্রক্রিয়া আটকে যায়। থাকে দীর্ঘ লাইন, সার্ভার জটিলতা আর দালালচক্রের দৌরাত্ম্য। অনলাইন পোর্টালে প্রায়ই সার্ভার ডাউন, ওটিপি না আসা বা অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকিং না হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়,বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীরা বা নারী প্রার্থীরা চরম শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়েন।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
অনলাইনে আবেদন করলেও চূড়ান্ত ভেরিফিকেশনের সময় স্থানীয় থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা অনেক সময় অলসতা করেন।
বৈধ ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি প্রমাণ
বিপুল অর্থের বৈধ উৎস (ট্যাক্স রিটার্ন, ট্রেড লাইসেন্স, জমির দলিল) দেখাতে গিয়ে ব্যাংক বা আয়কর অফিসে দুর্নীতির মুখোমুখি হওয়া।
যোগ্য ইমিগ্রেশন লইয়ার খুঁজে পাওয়া
বেশিরভাগ এজেন্সি শুধু ফর্ম জমা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে। দক্ষ ও সৎ এনলিস্টেড লইয়ার খুঁজে বের করাই আসল কাজ।
স্টেটমেন্ট অব পারপাস লেখা
এটা টাকা খরচ করে অন্যকে দিয়ে লিখিয়ে, ভাগ্যক্রমে বিমানে উঠতে পারলেও বেশিরভাগ সময় কিছুদিন পরেই আবার ফেরত চলে আসতে হয়। কেন যাচ্ছেন, কেন ফিরবেন, টাকার উৎস কী, ভবিষ্যৎ কী এসব ব্যাখ্যা করে SOP লিখতে হয়। আমাদের এখানে অন্যের SOP লিখে দেয়া হয় না বরং শিক্ষার্থীকে দিয়ে দরকার হলে প্রথমে বাংলায় লিখিয়ে পরে কখনো কখনো ৩০ বারেরও বেশি সংশোধন করিয়ে সফল সব "স্টেটমেন্ট অব পারপাস" তৈরি করানো হয়, যা শিক্ষার্থীর একান্ত নিজের বাস্তবতা। ফলে আমাদের এখানকার প্রতিটি SOP অব্যার্থ
পরিবারের অবিশ্বাস ও মানসিক চাপ
আগের ব্যর্থতার কারণে পরিবারের ভরসা হারানো, টাকার সংকট, আর চারপাশের নেতিবাচক মন্তব্য সামলে মনোযোগ ধরে রাখা। ইফতেখার হাল ছাড়েনি তাই আজ সে সফল
IELTS বা PTE স্কোরই আসল
কোনো শর্টকাট নেই, কোনো শর্টকাট নেই এবং কোনো শর্টকাট নেই। দীর্ঘদিনের ভুল অভ্যাস কাটিয়ে, সহজ সহজ কিন্তু নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ব্যান্ড স্কোর টেনে তোলাই একমাত্র পথ।
বিশ্বস্ত স্পন্সর ও বৈধ ফান্ড দেখানো
সুদের টাকায় সাময়িক ব্যাংক ব্যালেন্স, জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ব্যালেন্স সার্টিফিকেট, ভূয়া ব্যবসার কাগজ বা পে-স্লিপ, জাল ট্যাক্স ফাইল, জমি বা সম্পত্তির ভূয়া মূল্যায়নের কাগজ বা দূর সম্পর্কের মানুষের নামে ভুয়া স্পন্সরশিপের দলিল তৈরি করে দেখালেই বিপদ। উচিৎ পরিবার থেকে ঘাটতি হলে বৈধ স্পন্সর খুঁজে বের করা এবং সব লেনদেন আইনি কাঠামোয় রেখে ইমিগ্রেশনের সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা। অংশগ্রহণকারীদের পরিচিত বৈধ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি খোঁজা ও পারফেক্ট ডকুমেন্টেশনের বিষয়ে ইফতেখার তথা এই টিমের অভিজ্ঞতা সমুদ্রসম। এখানে শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট হবে যে, স্পন্সর হয়ে ইফতেখারকে কৃতজ্ঞ করেছিলেন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী আনুশেহ আনাদিল এবং ইফতেখার অবৈধ ভাবে ব্যাঙ্কে একটি টাকাও দেখায় নি।
এই গল্পে একজন মানুষের কথা না বললে গল্পটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তার নাম সাদিয়া আফরিন (আইভি), ইফতেখারের সর্বগুণসম্পন্না সব্যসাচী স্ত্রী।
দেশে থাকতে আইভি নিজে একটা অনলাইন শপ চালাত, নাম ছিল "যাত্রা"। সেখানে সে মেয়েদের সাজসজ্জার অসাধারণ সব সামগ্রী বিক্রি করত। শুধু বিক্রি নয়, নিজে ঘুরে ঘুরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবচেয়ে ভালো মানের পণ্যটা খুঁজে বের করত ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্য। কোনো মেলায় স্টল দিলে বা অফার দিলে ইফতেখার আর তার ভাই হিমশিম খেয়ে যেতেন শুধু আইভির কাজের আনুষাঙ্গিক দিকগুলো সামলাতেই। এমন মাসও গেছে, লাখ টাকার উপরে প্রফিট করেছে আইভি
লেখালেখিতেও সে সপ্রতিভ। দেশের একটা প্রথিতযশা ইংরেজি ফ্যাশন ম্যাগাজিনে নিয়মিত লিখত। নিজের চাকরি, লেখালেখি, অনলাইন শপ ... এতগুলো জায়গা থেকে আয় করা একজন চৌকশ একটা মেয়ে সে।
সবচেয়ে বড় কথা যখন ইফতেখার বারবার হারছিল, একটার পর একটা রিজেক্ট লেটার পাচ্ছিল, নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছিল তখন আইভি একবারও তার উপর থেকে আস্থা সরায়নি। যে মানুষটা নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না, তার পাশে অটল ছিল এই আইভি, যে বিশ্বাস করত ইফতেখার পারবে, পারবেই।
এমন জীবনসঙ্গী সহজে কারো ভাগ্যে জোটে না। সেই অবিচল আস্থাটাই আজ তাকে নিয়ে গেছে কানাডা।
এখনো ইফতেখারের একটা রাতের কথা মনে আছে। ইফতেখার তখন চুপচাপ বসেছিল। সামনে আরেকটা রিজেকশন লেটার। সেদিন সে নিজেকে একটা প্রশ্ন করেছিল, এতদিন যা করেছি তার একটাও কি আসলে ঠিক ছিল?
অন্তরাত্মা থেকে আসা তার নিজের উত্তরটা ছিল "না"। আর সেই "না" থেকেই শুরু হলো তার আসল যাত্রা।
তখন সে আর আইভি ঢাকায় চাকরি করছিল, মোটামুটি ভালোই চলতো তাদের সংসার। হয়তো সম্ভব না, হয়তো আরো টাকা নষ্ট হবে, কী দরকার দেশের চাকরি ছেড়ে বিদেশে যাবার এসব ভেবে বাসার প্রতিটা মানুষ তাকে বিদেশ যাওয়া থেকে বিরত রাখতে চেয়েছিল। সরাসরি কেউ না বলেনি কিন্তু টাকা নেই, কাগজ নেই, সমস্যা চলছে ইত্যাদি অজুহাতে সরে যাচ্ছিল সবাই। বহু বছর আগে, পরিবারের এক সৎ-চাচা রাশিয়া গিয়ে আর কোনদিন ফেরেন নি, তাই মা-বাবার মনও হয়তো সায় দিচ্ছিল না।
কেউ পাশে নেই, এটা বুঝেই সে প্রথমবারের মতো সত্যিকারের পরিশ্রম শুরু করল। আগে যে ভুল পথে বছরের পর বছর সময় নষ্ট করেছিল, এবার সেই একই সময়ে সে এগিয়ে গেল কল্পনাতীত গতিতে। প্রতিদিন ভোরে উঠে ইংরেজি অনুশীলন শেষে অফিসে রওনা দেয়া, অফিস থেকে ফিরে রাত জেগে মক টেস্ট দেয়া, বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করা আর অনলাইনে বারবার বারবার রিভিশন, টেস্ট আর প্রেকটিস। বাজপাখির মনযোগ দিয়ে প্রস্তুতি এবং উপস্থাপনের সকল ত্রুটি খুঁজে খুঁজে বের করা এবং সেগুলোর সংশোধন নিয়েই কাটছিল তার প্রতিটি দিন। এভাবে সে IELTS স্কোর ৫.৫ থেকে টেনে তুলল প্রায় ৮-এ। সেই স্কোর, চমৎকার ও মৌলিকসব আবেদনপত্র ইত্যাদি মিলিয়ে এডমিশান জোগাড় করে ফেললো স্কলারশিপসহ। নিজে নিজে স্পন্সর জোগাড় করল আর ততদিনে সে "পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি" কাকে বলে সেটা শিখে গেছে তাই একজন সেকেন্ডারি স্পন্সর পর্যন্ত ঠিক করল (যদিও উনাকে পরে আর দরকার হয়নি)। সেই স্পন্সরদের অভিজ্ঞ পরামর্শে এবং তার এনলিস্টেড কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন লইয়ার ভাইয়ের উপদেশ অনুযায়ী ব্যাঙ্কে সম্পূর্ণ বৈধ ভাবে, প্রয়োজনের চেয়েও কয়েক লাখ টাকা অতিরিক্ত দেখাল এবং একজন স্বনির্মিত পুরুষের মত জেদ বজায় রেখে বাসা থেকে একটা টাকাও না নিয়ে সত্যিই পাড়ি দিল তার স্বপ্নের কানাডায়।
ইফতেখারের আইনজীবী ইফতেখারের একটি স্টেটমেন্ট অফ পারপাস ৩৬ বার সংশোধন করিয়েছিলেন। বিভিন্ন কাজে ভীষণ ব্যস্ত রেখে মাসখানেক রাতেও ঠিকভাবে ঘুমাতে দেননি, ভোরবেলা একটার পর একটা কাগজ ঠিক করতে যেতে বাধ্য করেছেন, হয়তো মাঝরাতে জরুরী দুটো প্যারা নতুন করে আবার লিখে শেষ হওয়া মাত্রই ইমেইল করতে বলেছেন আর যে ছেলেটা একসময় শর্টকাট খুঁজত, অন্যকে টাকা দিয়ে SOP লেখাত, শিক্ষা নেবার পর সে নিজেই বলতো ... আরেকবার লিখি? নতুন করে লিখলে, আমি এবার আরও ভালো ভাবে এটা লিখতে পারবো।
যে পথে সে বারবার দৌড়াতে গিয়ে বছরের পর বছর হোঁচট খেয়েছিল, সেই একই পথ এবার সে পার হচ্ছিল এমন মসৃণ ভাবে যে সে নিজেও অবাক হয়ে যাচ্ছিল। পার্থক্যটা রাস্তায় ছিল না, পার্থক্যটা ছিল তার নিজের ভেতরে। পার্থক্য ছিল নিজের শর্টকাট খোঁজা অতীত শংকিত স্বত্ত্বার সাথে, সব কাজ সময়মত, পূর্ণাঙ্গরূপে ও সৎ ভাবে নিজে নিজে করতে চাওয়া বর্তমান সাহসী স্বত্ত্বার। পার্থক্য ছিল প্রতারক, মিষ্টভাষী দালালদের বাদ দিয়ে শিক্ষিত, সনদপ্রাপ্ত, সৎ, চৌকশ, মেধাবী এবং কঠোর একজন আইনজীবীকে পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করায়।
ইফতেখারের এই সকল অভিজ্ঞতা থেকেই সাজানো হয়েছে কোর্সের সিলেবাস
তাই শুধু ইংরেজি শেখানো নয়, প্রবাসী হতে যা যা জানা দরকার, সবকিছু ধাপে ধাপে
কমৌলিক ইংরেজি ও একাডেমিক এটিকেট
- প্রাতিষ্ঠানিক অভিবাদন, সম্মানসূচক সম্বোধন, বিনয়ের সাথে দ্বিমত পোষণের ভাষা
- ক্লাসরুম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও আন্তর্জাতিক পরিবেশের আচরণবিধি
খফরমাল ইমেইল ও লেটার রাইটিং
- প্রফেসর বা ভর্তি সংস্থাকে সঠিক সাবজেক্ট লাইন ও বডি দিয়ে ইমেইল লেখা
- SOP, Statement of Intent, Cover Letter লেখার বিন্যাস ও কৌশল
গবেসিক কম্পিউটিং ও ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন
- Google Docs, MS Word-এ আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে ফন্ট, মার্জিন, স্পেসিং, ইন্ডেনটেশান ঠিক রাখা
- পিডিএফ তৈরি, অনলাইন ফর্ম নির্ভুলভাবে পূরণ করা
ঘডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন দক্ষতা
- NID, পাসপোর্ট, ট্রান্সক্রিপ্ট, কাবিননামায় নাম-জন্মতারিখের বানান সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা
- কমা, ফুলস্টপের মতো ছোট ভুল আগে থেকেই খুঁজে বের করে সংশোধনের অভ্যাস
ঙউচ্চারণ ও লিসেনিং ফ্লুয়েন্সি
- সঠিক উচ্চারণ, বাক্যপ্রবাহ (Stress & Intonation), স্বাভাবিক সাবলীলতা
- নেটিভ স্পিকারদের কথা শুনে মূলভাব ও সূক্ষ্ম অর্থ বোঝার নিয়মিত চর্চা
চস্ট্রাকচারড রিডিং ও একাডেমিক রাইটিং
- Skimming ও Scanning — দ্রুত পড়ে সারমর্ম ও নির্দিষ্ট তথ্য বের করা
- নিজের মতামত যুক্তিসঙ্গতভাবে প্যারাগ্রাফ বা রচনায় গুছিয়ে লেখা
শব্দ আর ব্যাকরণ না বুঝে মুখস্থ নয়, বুঝে বুঝে মনে রাখার দুইটা পরীক্ষিত পদ্ধতিতে
স্পেসড রিপিটিশন ও স্পাইডার ম্যাপ
মস্তিষ্ক নতুন তথ্য কিছুদিন পর ভুলে যেতে শুরু করে। তাই এই পদ্ধতিতে একটা শব্দ বা নিয়ম নির্দিষ্ট বিরতিতে (১ দিন, ৩ দিন, ৭ দিন, ২১ দিন পর) বারবার রিভিশন দেয়ানো হয়। ফ্ল্যাশকার্ড আর Spider Map ব্যবহার করে।
Spider Map হল একটা মূল শব্দ কেন্দ্রে রেখে তার বিভিন্ন রূপ, সমার্থক-বিপরীত শব্দ ও কয়েকটা বাস্তব বাক্য দিয়ে চারপাশে ভিজ্যুয়াল ম্যাপ তৈরি করা। এভাবে শিখলে খুব সহজেই শব্দগুলো মনে গেঁথে যায়।
কনটেক্সচুয়াল লার্নিং ও অ্যাক্টিভ রিকল
আলাদা করে ১০০টা শব্দ মুখস্থ করার চেয়ে একটা গল্পের ভেতর থেকে শেখা অনেক বেশি কার্যকর। তাই পড়ার সময় এখানে অজানা শব্দ পুরো বাক্যের প্রেক্ষাপটসহ শেখানো হয়।
প্রতিদিন শেখা নতুন শব্দগুলো দিয়ে শিক্ষার্থী নিজের জীবনের ওপর ভিত্তি করে ছোট একটা গল্প লেখে। ফলে কেবল স্মৃতি নয়, নিজের অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত হয় শব্দটা আর কখনো মন থেকে মুছে যায় না।
কারা ক্লাস করতে পারবে, কীভাবে
ইফতেখার এখন কানাডায় থিতু হয়েছে, অন্য স্বেচ্ছাসেবকদের কেউ আমেরিকায়, কেউ ইংল্যান্ডে তাই ক্লাস হবে Zoom বা Google Meet-এ। ক্লাস সেভেন-এইট থেকেই যারা বিদেশে যেতে আগ্রহী, ইফতেখারের নির্দেশনায় তাদের ইংরেজির ভিত মজবুত করতে সাহায্য করবেন দেশে থাকা ইংরেজি সাহিত্য বা কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা কিছু বিদ্যানুরাগী এবং প্রতি সপ্তাহে ইফতেখার নিজে আমাদের সকল শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই করবেন।
আমাদের এখানে চর্চা করে যারা IELTS দিয়ে সফল হবেন তাদের জন্য ইফতেখারের সকল পরামর্শ ফ্রি আর অন্যদের যাঁরা ইতিমধ্যে IELTS-এ ৬.৫ এর বেশি অর্জন করেছেন তাদের নূন্যতম ফি-এর বিনিময়ে পুরো বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন জনাব ইফতেখার সিদ্দিক এবং তাঁর বিজ্ঞ আইনজীবী নিজে।
আমাদের কোর্সগুলো যারা এখন হাইস্কুলে আছেন আর এখনই শুরু করছেন, তারা তিন বছর ধরে যা যা অনুশীলন করবেন তা দিয়ে কেবল স্কুলের পরীক্ষায় ৮০+ পাবেন তাই না, আলাদা কোনো প্রস্তুতি ছাড়া IELTS দিতে বসলেও ৬+ পাবেন এই লক্ষ্য নিয়ে সাজানো।
আদর্শ শিশু বিদ্যালয়, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, পাবনা ক্যাডেট কলেজ, AIUB-এর মত দেশের স্বনামধন্য স্কুল-কলেজে পড়েও সে নিজে ইংরেজি সাবলীলভাবে ব্যবহার করতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছিল। ইংরেজি শব্দ বা ব্যাকরণ না জানার ফলে নয়, ওগুলো দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যবহার না করার ফলে। তাই তাঁর কোর্সে ইংরেজি, বেসিক কম্পিউটিং, লেটার রাইটিং বা একাডেমিক এটিকেট কোনোটাই এড়িয়ে যাওয়া হয় না। শেখা যেমন এখানে নিশ্চিত করা হয় তেমনি নিশ্চিত করা হয় সেই শিক্ষার সুব্যবহার
আইএলটিএসের ফলাফল অনুযায়ী যাদের ইংরেজিতে দক্ষতা সাত বা তারচেয়ে বেশি তাদের সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছে তালিকাভুক্ত ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আছে বিনামূল্যে শেখার সুযোগ।
যে মেয়েটা রাজশাহীর চাঁপাইয়ে বড় হয়েছে, ইংরেজি বলতে গিয়ে একসময় সংকোচ বোধ করত, ঠান্ডা সহ্যই করতে পারত না সেই আইভি আজ কানাডার একটা সম্ভ্রান্ত কল সেন্টারে দক্ষ হাতে, আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে আইটি সাপোর্ট দেয়।
এই আত্মবিশ্বাসটা এমনি এমনি আসেনি। এটা অর্জনের জন্য তাকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, উদয়াস্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। দেশে থাকতে একবার এক প্রতারক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ার সামলাতে সামলাতে মানসিকভাবে প্রায় ভেঙে পড়েছিল সে। সেখান থেকেই সে উঠে দাঁড়িয়েছে একজন সৃজনশীল উদ্যোক্তা হিসেবে। সেই একই মেয়ে আজ হাজার মাইল দূরে, অন্য একটা ভাষায়, অন্য একটা সংস্কৃতিতে দাঁড়িয়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছে নিজের চেষ্টা, অবিচল আস্থা ও দূরদর্শী পরিকল্পনার ফলে
ঠান্ডা এখনো তার পছন্দ না কিন্তু কাঁপতে কাঁপতে নায়াগ্রা ফলস থেকে কানাডার বিভিন্ন জমে যাওয়া লেক আর তুষার ঢাকা পাহাড় ঘুরে ঘুরে ছবি তুলতে তুলতে সে নাকি কুখ্যাত কানাডিয়ান উইন্টারকেও ভালোবেসে ফেলেছে!
লাইসেন্সের জটিলতায় এখনো আইভি নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেনি তাই মাঝেমধ্যে তার অস্থির লাগে কিন্তু তার দৃঢ় বিশ্বাস যে, লাইসেন্সটা একবার হাতে এলে তার স্বামীকে আর কোনোদিন কোনো কাজ করতে হবে না। তার প্রতিষ্ঠানটা একটু আধটু দেখাশোনা করলেই হবে। শুনে ইফতেখারও হাসতে হাসতে বলে, মাস শেষে যত টাকাই আসুক, ঐসব জটিল প্রযুক্তির চাকরি প্রথম সুযোগেই ছেড়ে সে কানাডিয়ান কৃষক হয়ে যাবে। সেখানকার কৃষকেরা নাকি বাংলাদেশের কৃষকদের মতো বঞ্চিত আর অবহেলিত নয় বরং সমাজের আর দশটা পেশার মতই সম্মানিত একটা পেশা কৃষিকাজ।
এই দম্পতির স্বপ্ন এখন অনেক বড়। সবাইকে নিজেদের অভিজ্ঞতার সবটুকু দিয়ে সহযোগিতা করা ছাড়াও, ইফতেখার চায় একরের পর একর জমি লিজ নিয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে কৃষিকাজ, যা ওই দেশের যেকোনো সাধারণ চাকরির চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক আর আইভি একটা রেস্টুরেন্ট ও মেক-ওভার পার্লারের চেইন করতে চায়, যা তার অনেক বছরের স্বপ্ন। তাঁরা দুজনই চায় ভবিষ্যতে অনেক অনেক দেশি মানুষকে উন্নত দেশের, উন্নত জীবনের স্বাদ দিতে। তাই শর্টকাট নয়, পরনির্ভরশীলতা নয়, সঠিক পথে লেগে থাকলে বিদেশ গমনে সফলতা আসবেই আর যখন আসবে তখন আসবে বন্যা, জোয়ার আর জলোচ্ছ্বাসের মতো।
যা সে পরিবারকে ফিরিয়ে দিতে চায় তা টাকায় মাপা যায় না
আজ ইফতেখার কানাডায় মাস্টার্স শেষ করে একটা ভালো চাকরি করছে। বউকেও নিয়ে গেছে নিজের সাথে। কিন্তু যে জিনিসটা সে সবচেয়ে বেশি ফিরে পেয়েছে, সেটা হলো পরিবারের চোখে সেই আগের বিশ্বাস আর অবস্থানটা।
সে জানে, এই পথে হাঁটতে গিয়ে যে প্রতারণা, কষ্ট আর অপমান সে সয়েছে তা বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব যদি সঠিক পথটা আগে থেকেই কেউ দেখিয়ে দেয়। পরিবারের সমর্থন ইফতেখারের ছিল না কিন্তু যার পরিবারের সমর্থন আছে তার জন্য এই পথ আরও সহজ। শুধু লাগবে একটা ভালো IELTS স্কোর আর তালিকায় থাকা সব কাগজপত্র, যেখানে নাম বা বয়সে কোনো ভুল নেই।
একটা অনুরোধ: ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে বা অবৈধ পথে যারা বিদেশ যেতে চান, তারা দয়া করে এই কোর্স বা পেইজ থেকে দূরে থাকুন। এখানে শুধু বৈধ, সৎ আর টেকসই পথের কথাই বলা হবে।
আপনার বা আপনার সন্তানের যাত্রাটা এখান থেকে শুরু হোক
আমাদের এখানে ইংরেজি বা বিদেশ গমন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হলে "বিকাশ" অথবা "নগদ" ব্যবহার করে ১০০০.০০ (এক হাজার টাকা মাত্র) সেন্ড মানি করে ট্রানজেকশান নাম্বার বা টাকা পাঠানোর মেসেজ বা স্ক্রিনশটসহ ফর্মটা পূরণ করুন। রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া সকলের সাথে ইফতেখার বা উনার নিজস্ব প্রতিনিধি যোগাযোগ করবেন ব্যাচ, সময়সূচি আর ক্লাসের বিস্তারিত বিষয়ে।
যে বাবা একসময় তাকে এত দূরে পাঠাতে রাজি ছিলেন না, যে মা তার নিজের প্রায় সকল গহনা হারিয়ে চুপ হয়ে গিয়েছিলেন, যে পরিচিতরা তার ব্যর্থতার দিনগুলোয় তাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করতো, তার বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নকে যারা আকাশ কুসুম কল্পনা বলে কটাক্ষ করতো আর যে আইভি একবারও তার উপর থেকে আস্থা হারায়নি, তাদের সবার জন্য সেই একটা মুহূর্ত ছিল ইফতেখারের দেয়া চূড়ান্ত জবাব।
ইফতেখার হারেনি। সে শুধু দেরিতে বুঝেছিল কিন্তু বোঝার পর আর একবারও সে পেছন ফিরে তাকায়নি। আজ সে চায়, তার মতো আর কাউকে যেন এত কষ্ট করে, এত দেরিতে এই সত্যিটা বুঝতে না হয়।